Showing posts with label ভাব-সম্প্রসারণ. Show all posts
Showing posts with label ভাব-সম্প্রসারণ. Show all posts

Sunday, 21 August 2016

স্বদেশের উপকারে নাই যার মন কে বলে মানুষ তারে পশু সেই জন
 মূল ভাব : স্বদেশপ্রীতি যার নেই—সে পশুর সমান। সম্প্রসারিত ভাব : মা ও মাতৃভূমির সঙ্গে মানুষের রয়েছে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। আমাদের জন্মভূমি আমাদের দিয়েছে পরম আশ্রয়। এর সুশীতল ছায়ায় আমরা লালিত-পালিত হচ্ছি। এর নদী, জল, ফসলভরা মাঠ, প্রাকৃতিক দৃশ্য মানুষকে হূদয়ের গভীরে টেনে নেয়। সুতরাং স্বদেশের ভালো-মন্দ মানুষকে অবশ্যই ভাবতে হবে। একজন সচেতন মানুষ তার জন্মভূমিকে ভালো না বেসে পারে না। প্রিয় স্বদেশকে ঘিরেই তার অন্তরে রচিত হয় নানা স্বপ্ন। দেশের গৌরবে তার হূদয় আনন্দে ভরে ওঠে, আবার দেশের পরাজয়ে নেমে আসে বেদনার ছায়া। তাই তো দেখা যায় দেশপ্রেমিক মহানবী (সা.)কে শত্রুর অত্যাচারে জর্জরিত হয়ে তাঁর জন্মভূমি মক্কা নগরী ছেড়ে মদিনায় যাওয়ার সময় গভীর বেদনায় আপ্লুত হতে। আবার কেউ যদি জন্মভূমিকে ভালো না বাসে তবে সে মানুষ নামের অযোগ্য। তাকে পশু বলাই শ্রেয়। কেননা পশুর কোনো দেশ নেই, মানুষের আছে। তাই যুগে যুগে মীর জাফরের মতো ষড়যন্ত্রকারীরা মানুষ নামের অযোগ্য। এ ধরনের মানুষ যতই ধনবান, রূপবান কিংবা জ্ঞানবান হোক না কেন, জন্মভূমির কল্যাণে যদি তার মন না থাকে তাহলে সে নরাধম। মন্তব্য : তাই স্বদেশের উপকারে আত্মনিয়োগ করা সবারই পরম কর্তব্য। -
যে সহে, সে রহে 
মূল ভাব : এ জগতে যারা সহিষ্ণু ও ধৈর্যশীল তারাই কেবল টিকে থাকে। সম্প্রসারিত ভাব : মানুষের স্বভাবের মধ্যে যতগুলো মহত্  বৈশিষ্ট্যের সম্মিলন ঘটে থাকে, তার মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য হলো ‘সহনশীলতা’। সহ্য করার শক্তিই আসল শক্তি। যার সহ্যশক্তি নেই, তার দ্বারা জীবনে বড় কিছু করা সম্ভব নয়। মানুষের জীবন সংগ্রামমুখর। এখানে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে টিকে থাকতে হয়। জীবনযুদ্ধে জয়ী হতে হলে সহনশীলতার একান্ত প্রয়োজন। যারা ধৈর্যশীল, তারা এ প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়। বাংলায় একটি প্রবাদ আছে ‘সবুরে  মেওয়া ফলে’ অর্থাত্ ধৈর্য ধরলে সুফল পাওয়া যায়। যেসব মনীষী জগতে খ্যাতি লাভ করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের জীবনে অন্তত এই একটি মহত্ মানবিক গুণের কঠোর অনুশীলনের দৃষ্টান্ত সহজেই চোখে পড়ে। যিশু খ্রিস্টকে ক্রুশ বিদ্ধ করার পরও তিনি অসহিষ্ণু হননি। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনালেখ্য সহনশীলতার এক অনন্য দলিল। এসব ধৈর্যশীল মহামানবদের আদর্শ আমাদের চলার পাথেয়। বিপদে ধৈর্য ধারণ করা যেকোনো বুদ্ধিমান ও বিবেকবান মানুষের পক্ষে একান্ত প্রয়োজন। কোনো সমস্যার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যদি কেউ ধৈর্য হারিয়ে ফেলে, তাহলে সেই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ তো মেলেই না, বরং সমস্যাটি আরো চেপে বসে। কারণ কোনো মানুষের জীবন সমস্যাশূন্য নয়। প্রতিনিয়ত তাকে নানা ধরনের বাধা-বিপত্তির সামনে পড়তে হয়। চলতে গেলে বিপদ-আপদ, দুর্যোগ-দুঃসময় আসবেই। এ ধরনের প্রতিকূল অবস্থায় বেশির ভাগ মানুষের ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। তার স্বাভাবিক বিবেকবুদ্ধি লোপ পায়। সে দিশাহারা হয়ে পড়ে। কিন্তু প্রকৃত ধৈর্যশীল ব্যক্তি এ রকম দুঃসময়ে সাহস হারায় না। মাথা ঠাণ্ডা রেখে, যুক্তি ও বুদ্ধি দিয়ে, পরিস্থিতির বিচার বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাই যথার্থ মানুষের কাজ। তাই জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে সহনশীলতার একান্ত প্রয়োজন। মন্তব্য : জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে সহনশীলতার বিকল্প নেই। সহিষ্ণুতার চর্চা ছাড়া সাফল্য লাভ অসম্ভব।   ভোগে সুখ নাই, ত্যাগেই মনুষ্যত্বের প্রকাশ মূল ভাব : পরের জন্য ত্যাগের মাধ্যমেই মানুষের মনুষ্যত্বের পরিচয় পাওয়া যায়। সম্প্রসারিত ভাব : সুখ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা ভ্রান্তিজনক। তারা ভোগ-বিলাসিতা, দৈহিক আরাম-আয়েশকে সুখের উত্স ও মাধ্যম বলে মনে করে। আর তাই ভোগ-বিলাসের নানা উপকরণ আয়ত্তে আনার জন্য তাদের চেষ্টার শেষ থাকে না। ভোগের ধর্ম এই যে আরো ভোগাকাঙ্ক্ষার জন্ম দেয়। ফলে সৃষ্টি হয় গভীর অতৃপ্তির। শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, ভোগাকীর্ণ জীবন চূড়ান্ত বিচারে সুখ নিশ্চিত করতে পারে না। ভোগই যদি সুখের আকর হতো, তবে বিত্ত ও ক্ষমতাবানরাই পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী বলে গণ্য হতেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, তাঁরাও জীবনে সুখী হতে পারেন না। আসলে ভোগের মাধ্যমে জীবনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। কিন্তু যাঁরা নিজের জন্য ভাবেন না, পরের মঙ্গলের জন্য জীবন উত্সর্গ করেন, তাঁরাই পান মানুষের স্বীকৃতি। রেখে যাওয়া কর্মের মাধ্যমে তাঁরা লাভ করেন অমরত্ব। ত্যাগের মহিমা দ্বারা তাঁরা গৌরবের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। তাই ভোগে কখনোই তৃপ্তি মেটে না। সার্থকতা খুঁজে পাওয়া যায় ত্যাগের মাধ্যমে। মানুষ যদি অপরের কল্যাণে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উত্সর্গ করে তাহলে তার চরিত্রে মহত্ত্বের প্রকাশ ঘটে। মন্তব্য : অপরের জন্য জীবন বিলিয়ে দেওয়ার মাঝেই আছে চরম সার্থকতা। তাই জীবনের সার্থকতা ভোগে নয়, ত্যাগে। - 
মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে, বয়সের মধ্যে নয়
মূল ভাব : বয়স নয়, মহৎ কাজের মাধ্যমে মানুষ নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে।
সম্প্রসারিত ভাব : মানুুষের জীবনকে দীর্ঘ বয়সের সীমারেখা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। জীবনে যদি কোনো ভালো কাজ না থাকে, তবে সে জীবন অর্থহীন। তার কোনো মর্যাদা থাকে না। সে নিষ্ফল জীবনের অধিকারী মানুষটিকে কেউ মনে রাখে না। তার বয়স নিছক দিনযাপনের গ্লানি ছাড়া আর কিছু নয়। অপরদিকে যে মানুষ জীবনকে কর্মমুখর রাখে এবং যার কাজের মাধ্যমে জগৎ ও জীবনের উপকার হয়, তাকে বিশ্বের মানুষ হৃদয়ে শ্রদ্ধার আসন দান করে। আমাদের মহান ভাষা আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের আমরা আজও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। আমাদের দেশের স্বাধীনতার জন্য যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁরা বেঁচে আছেন আমাদের জাতীয় সত্তায়। নিজের জন্য নয়, অপরের কথা ভেবে যাঁরা যুগে যুগে, দেশে দেশে বিলিয়ে গেছেন নিজেদের মেধা, মনন তাঁরাই লাভ করেছেন অমরত্ব। উদাহরণ হিসেবে প্রথমেই আসে মহানবী (সা.)-এর কথা। এ ছাড়া দুর্গতদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল, মাদার তেরেসা। ফরাসি বালিকা জোয়ান অব আর্ক স্বদেশের জন্য জীবন দিয়েছিলেন। তাঁর বীরত্বের কাহিনী পড়ে ধন্য হয় তাঁর স্বদেশের মানুষ। কিশোর ক্ষুদিরাম স্বাধীন জন্মভূমির জন্য ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলেছিলেন। তাঁর কথা আমরা কেউ ভুলিনি।
মন্তব্য : তাই বলা হয়, রেখে যাওয়া সত্কর্মের মাধ্যমেই মানুষ অমরত্ব লাভ করে।

জীবে প্রেম করে যেই জন,সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।
মূলভাব :   স্রষ্টাকে পাওয়ার শ্রেষ্ঠ পথ হচ্ছে তাঁর সৃষ্টিকে ভালোবাসা।
সম্প্রসারিত ভাব : স্রষ্টাকে পাওয়ার জন্য মানুষের চেষ্টার অন্ত নেই। ধর্মীয় বিধিবিধান অনুসরণের মাধ্যমে প্রত্যেকেই স্রষ্টাকে পেতে চায়। সে জন্য অনেকে লোকচক্ষুর আড়ালে গিয়ে স্রষ্টার নৈকট্য লাভ করতে চায়। কিন্তু স্রষ্টার অস্তিত্ব তাঁর সমস্ত সৃষ্ট জীবের মধ্যেই নিহিত। বিশ্বের সব জনপ্রাণী তাঁর ভালোবাসারই সৃষ্টি। তাই তাঁর সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করলে বিধাতা খুশি হন। দুঃখী মানুষের দুঃখ মোচনে, বিপন্নজনের কল্যাণে সেবার হাত বাড়িয়ে দিয়েই স্রষ্টার সেবা পাওয়া যায়। আমাদের মহানবী (সা.), যিশুখ্রিস্ট, মাদার তেরেসা, ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলসহ যাঁরা যুগে যুগে বিপন্ন মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, তাঁরা প্রকৃতপক্ষে তাঁদের মহৎ কর্মের মাধ্যমে স্রষ্টাকেই পেতে চেয়েছেন। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে মানুষ অপর মানুষ কিংবা অন্য প্রাণীর প্রতি সদয় ও যত্নবান হওয়ার মাধ্যমেই কেবল মনুষ্যত্ব লাভ করতে পারে। জীবের সেবা বাদ দিয়ে কেউ যদি ঈশ্বরের সেবা করতে চায়, ঈশ্বর তাতে সন্তুষ্ট হন না।
মন্তব্য : তাই বলা যায়—জীব প্রেমই ঈশ্বর প্রীতির প্রকৃত সেবার পথ।
                                         প্রাণ থাকলে প্রাণী হয়, কিন্তু মন না থাকলে মানুষ হয় না

ভাব-সম্প্রসারণ : অন্যান্য প্রাণিকুলের মতো শুধু প্রাণ বা জীবনের অস্তিত্ব থাকলেই মানুষ পরিপূর্ণ মানুষে পরিণত হয় না, যথার্থ মানুষ হতে হলে দেহে উদার অন্তঃকরণ তথা মনের উপস্থিতি অত্যাবশ্যকীয়।
বিশ্ব বিধাতার অপূর্ব সৃষ্টি এ পৃথিবী। অতি যত্নে, মমতায় তিনি সৃষ্টি করেছেন এ বিশ্ব। এ সৃষ্টি বৈচিত্র্যে তার নৈপুণ্যের অন্ত নেই। বিশ্ব জগতে যাদের প্রাণ আছে তারাই প্রাণী নামে বিবেচিত। জন্মের দিক দিয়ে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। জন্মের প্রাথমিক স্তরে অন্যান্য প্রাণীর মতোই তার বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটে প্রাকৃতিক নিয়মে। এ বৃদ্ধি ও বিকাশ লাভের জন্য মানুষকে কোনো চেষ্টা, যত্ন, সাধনা বা ত্যাগ স্বীকার করতে হয় না। কিন্তু মানুষের মধ্যকার মন নামক বিশেষ সত্তাটির জন্যই তাকে অতিরিক্ত জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করতে হয়। মানুষ ছাড়া অন্য জীবের মধ্যে যা নেই
প্রাণ থাকলে প্রাণী হয়, কিন্তু মন না থাকলে মানুষ হয় না
এ অনুভূতি উদ্ভূত মানবিক চেতনা। এ মানবিক চেতনা অন্য প্রাণীর না থাকায় মানুষের যে মহৎ গুণাবলি অর্জনের সুযোগ ঘটে তা অন্য প্রাণীর পক্ষে সম্ভব হয় না। মানুষ তার মন দিয়ে সাধনা করে জীবনের বিচিত্র বিকাশ ঘটায়। মনের কার্যকলাপ থেকে সভ্যতা-সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞানের ঘটেছে বিকাশ। মানুষের যা কিছু গুণাবলি তার ভিত্তি তার মন। মনের দ্বারাই সে ভালোমন্দ, দোষ-গুণ, ন্যায়-অন্যায় বিবেচনা করতে পারে। এ মন থেকেই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষের বৈশিষ্ট্যের বিকাশ ঘটেছে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, যার শারীরিক গঠন মানুষের মতো তিনিই মানুষ। এ জন্য তাকে অনেক সাধনা করতে হয়। সুন্দর মনের অভাবে মানুষের প্রাণ থাকলেও সে মানুষে পরিণত হয় না। তার অসুন্দর, অমানবীয় ও পশুর মতো আচরণ তাকে প্রকৃত মানুষ হওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তাই মানুষের প্রাণে মনুষ্যত্ব সৃষ্টি করার জন্য অনেক পড়াশোনা এবং সাধনার প্রয়োজন হয়। আমাদের সমাজে অনেক মানুষও পশুর মতো কাজ করে বেড়াচ্ছে। কারণ তাদের প্রাণে যথার্থ মনুষ্যত্বের উদ্ভব ঘটেনি। এ জন্য আমরা বলতে পারি, মনের মানুষই প্রকৃত মানুষ। মানুষকে তার শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার জন্য মানবিক চিন্তা-ভাবনার উৎকর্ষ সাধন করতে হবে। মানুষ যদি তার শ্রেষ্ঠত্বের চর্চা যথাযথভাবে না করে তবে পশু ও মানুষের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে উঠবে।