Sunday, 21 August 2016

মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যেবয়সের মধ্যে নয়
মূল ভাব : বয়স নয়, মহৎ কাজের মাধ্যমে মানুষ নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে।
সম্প্রসারিত ভাব : মানুুষের জীবনকে দীর্ঘ বয়সের সীমারেখা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। জীবনে যদি কোনো ভালো কাজ না থাকে, তবে সে জীবন অর্থহীন। তার কোনো মর্যাদা থাকে না। সে নিষ্ফল জীবনের অধিকারী মানুষটিকে কেউ মনে রাখে না। তার বয়স নিছক দিনযাপনের গ্লানি ছাড়া আর কিছু নয়। অপরদিকে যে মানুষ জীবনকে কর্মমুখর রাখে এবং যার কাজের মাধ্যমে জগৎ ও জীবনের উপকার হয়, তাকে বিশ্বের মানুষ হৃদয়ে শ্রদ্ধার আসন দান করে। আমাদের মহান ভাষা আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের আমরা আজও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। আমাদের দেশের স্বাধীনতার জন্য যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁরা বেঁচে আছেন আমাদের জাতীয় সত্তায়। নিজের জন্য নয়, অপরের কথা ভেবে যাঁরা যুগে যুগে, দেশে দেশে বিলিয়ে গেছেন নিজেদের মেধা, মনন তাঁরাই লাভ করেছেন অমরত্ব। উদাহরণ হিসেবে প্রথমেই আসে মহানবী (সা.)-এর কথা। এ ছাড়া দুর্গতদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল, মাদার তেরেসা। ফরাসি বালিকা জোয়ান অব আর্ক স্বদেশের জন্য জীবন দিয়েছিলেন। তাঁর বীরত্বের কাহিনী পড়ে ধন্য হয় তাঁর স্বদেশের মানুষ। কিশোর ক্ষুদিরাম স্বাধীন জন্মভূমির জন্য ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলেছিলেন। তাঁর কথা আমরা কেউ ভুলিনি।
মন্তব্য : তাই বলা হয়, রেখে যাওয়া সত্কর্মের মাধ্যমেই মানুষ অমরত্ব লাভ করে।

জীবে প্রেম করে যেই জন,সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।
মূলভাব :   স্রষ্টাকে পাওয়ার শ্রেষ্ঠ পথ হচ্ছে তাঁর সৃষ্টিকে ভালোবাসা।
সম্প্রসারিত ভাব : স্রষ্টাকে পাওয়ার জন্য মানুষের চেষ্টার অন্ত নেই। ধর্মীয় বিধিবিধান অনুসরণের মাধ্যমে প্রত্যেকেই স্রষ্টাকে পেতে চায়। সে জন্য অনেকে লোকচক্ষুর আড়ালে গিয়ে স্রষ্টার নৈকট্য লাভ করতে চায়। কিন্তু স্রষ্টার অস্তিত্ব তাঁর সমস্ত সৃষ্ট জীবের মধ্যেই নিহিত। বিশ্বের সব জনপ্রাণী তাঁর ভালোবাসারই সৃষ্টি। তাই তাঁর সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করলে বিধাতা খুশি হন। দুঃখী মানুষের দুঃখ মোচনে, বিপন্নজনের কল্যাণে সেবার হাত বাড়িয়ে দিয়েই স্রষ্টার সেবা পাওয়া যায়। আমাদের মহানবী (সা.), যিশুখ্রিস্ট, মাদার তেরেসা, ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলসহ যাঁরা যুগে যুগে বিপন্ন মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, তাঁরা প্রকৃতপক্ষে তাঁদের মহৎ কর্মের মাধ্যমে স্রষ্টাকেই পেতে চেয়েছেন। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে মানুষ অপর মানুষ কিংবা অন্য প্রাণীর প্রতি সদয় ও যত্নবান হওয়ার মাধ্যমেই কেবল মনুষ্যত্ব লাভ করতে পারে। জীবের সেবা বাদ দিয়ে কেউ যদি ঈশ্বরের সেবা করতে চায়, ঈশ্বর তাতে সন্তুষ্ট হন না।
মন্তব্য : তাই বলা যায়—জীব প্রেমই ঈশ্বর প্রীতির প্রকৃত সেবার পথ।
                                         প্রাণ থাকলে প্রাণী হয়, কিন্তু মন না থাকলে মানুষ হয় না

ভাব-সম্প্রসারণ : অন্যান্য প্রাণিকুলের মতো শুধু প্রাণ বা জীবনের অস্তিত্ব থাকলেই মানুষ পরিপূর্ণ মানুষে পরিণত হয় না, যথার্থ মানুষ হতে হলে দেহে উদার অন্তঃকরণ তথা মনের উপস্থিতি অত্যাবশ্যকীয়।
বিশ্ব বিধাতার অপূর্ব সৃষ্টি এ পৃথিবী। অতি যত্নে, মমতায় তিনি সৃষ্টি করেছেন এ বিশ্ব। এ সৃষ্টি বৈচিত্র্যে তার নৈপুণ্যের অন্ত নেই। বিশ্ব জগতে যাদের প্রাণ আছে তারাই প্রাণী নামে বিবেচিত। জন্মের দিক দিয়ে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। জন্মের প্রাথমিক স্তরে অন্যান্য প্রাণীর মতোই তার বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটে প্রাকৃতিক নিয়মে। এ বৃদ্ধি ও বিকাশ লাভের জন্য মানুষকে কোনো চেষ্টা, যত্ন, সাধনা বা ত্যাগ স্বীকার করতে হয় না। কিন্তু মানুষের মধ্যকার মন নামক বিশেষ সত্তাটির জন্যই তাকে অতিরিক্ত জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করতে হয়। মানুষ ছাড়া অন্য জীবের মধ্যে যা নেই
প্রাণ থাকলে প্রাণী হয়, কিন্তু মন না থাকলে মানুষ হয় না
এ অনুভূতি উদ্ভূত মানবিক চেতনা। এ মানবিক চেতনা অন্য প্রাণীর না থাকায় মানুষের যে মহৎ গুণাবলি অর্জনের সুযোগ ঘটে তা অন্য প্রাণীর পক্ষে সম্ভব হয় না। মানুষ তার মন দিয়ে সাধনা করে জীবনের বিচিত্র বিকাশ ঘটায়। মনের কার্যকলাপ থেকে সভ্যতা-সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞানের ঘটেছে বিকাশ। মানুষের যা কিছু গুণাবলি তার ভিত্তি তার মন। মনের দ্বারাই সে ভালোমন্দ, দোষ-গুণ, ন্যায়-অন্যায় বিবেচনা করতে পারে। এ মন থেকেই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষের বৈশিষ্ট্যের বিকাশ ঘটেছে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, যার শারীরিক গঠন মানুষের মতো তিনিই মানুষ। এ জন্য তাকে অনেক সাধনা করতে হয়। সুন্দর মনের অভাবে মানুষের প্রাণ থাকলেও সে মানুষে পরিণত হয় না। তার অসুন্দর, অমানবীয় ও পশুর মতো আচরণ তাকে প্রকৃত মানুষ হওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তাই মানুষের প্রাণে মনুষ্যত্ব সৃষ্টি করার জন্য অনেক পড়াশোনা এবং সাধনার প্রয়োজন হয়। আমাদের সমাজে অনেক মানুষও পশুর মতো কাজ করে বেড়াচ্ছে। কারণ তাদের প্রাণে যথার্থ মনুষ্যত্বের উদ্ভব ঘটেনি। এ জন্য আমরা বলতে পারি, মনের মানুষই প্রকৃত মানুষ। মানুষকে তার শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার জন্য মানবিক চিন্তা-ভাবনার উৎকর্ষ সাধন করতে হবে। মানুষ যদি তার শ্রেষ্ঠত্বের চর্চা যথাযথভাবে না করে তবে পশু ও মানুষের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে উঠবে।
বাংলা রচনা সমগ্র
                                                                  অধ্যবসায়
(সংকেত: সূচনা; অধ্যবসায় কী; অধ্যবসায়ের প্রয়োজনীয়তা; ছাত্রজীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব; ব্যক্তিজীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব; জাতীয় জীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব; প্রতিভা ও অধ্যবসায়; অধ্যবসায়ীর দৃষ্টান্ত; অধ্যবসায়হীনের অবস্থা; উপসংহার।)
সূচনা: জীবনে সফল হতে চাই একাগ্রতা ও নিষ্ঠা। সফলতার পথের প্রথম এবং অনিবার্য শর্ত হলো অধ্যবসায়। অধ্যবসায় ছাড়া ব্যক্তি জীবন কিংবা জাতীয় জীবন কোনো ক্ষেত্রেই সফলতা কল্পনাও করা যায় না। একমাত্র অধ্যবসায়ের বলেই মানুষ জীবনে চলার পথের সকল বাধা-বিপত্তি মোকাবেলা করে সফলতার শীর্ষে আরোহন করতে পারে।
অধ্যবসায় কী: যে কোনো কাজেই সফলতা ও ব্যর্থতা এ দু’টিই আসতে পারে। জীবনে সব কাজেই মানুষ প্রথমবারেই সফল হবে এমন নয়। কোনো কোনো কাজে প্রথমবার, এমনকী দ্বিতীয়, তৃতীয় বারেও সফলতা নাও আসতে পারে। কিন্তু তাই বলে ব্যর্থতাকে মেনে নিয়ে, হতাশ হয়ে, থেমে থাকলে চলবে না। বরং ধৈর্য ও নিষ্ঠার সাথে সফলতা না আসা পর্যন্ত চেষ্টা করে যেতে হবে। এরই নাম অধ্যবসায়। এ প্রসঙ্গে কবি যথার্থই বলেছেন-
‘পারিব না এ কথাটি বলিও না আর,
একবার না পারিলে দেখ শতবার।’
অধ্যবসায়ের প্রয়োজনীয়তা: পবিত্র হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে- ‘যে চেষ্টা করে সেই পায়’। হাদিসের এই বাণী থেকেই একথা সুস্পষ্ট যে, মানবজীবনে অধ্যবসায়ের বিকল্প নেই। প্রতিটি ধর্মেই অধ্যবসায়কে মানুষের মহৎ গুণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পৃথিবীতে যা কিছু মহান, যা কিছু কল্যাণকর তা সবই অধ্যবসায়ের গুণে অর্জিত হয়েছে। অধ্যবসায় মানব সভ্যতার অগ্রগতির প্রথম সোপান। আদিম সভ্যতার বন্য মানুষ বর্তমানে বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষিত আধুনিক মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে মূলত অধ্যবসায়ের গুণেই। অধ্যবসায়ের গুণেই মানুষ যুগে যুগে জয় করেছে মহাসাগরের অতলগর্ভ, সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গ, এমনকী মহাকাশও। জীবনে চলার পথে প্রতি পদক্ষেপে যে ব্যক্তি অধ্যবসায়ের পরিচয় দিতে পারে সেই সফল। সুতরাং মানব জীবনে অধ্যবসায় অপরিহার্য।
ছাত্রজীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব: ছাত্রজীবন ব্যক্তির মানস গঠনের শ্রেষ্ঠ সময়। পরবর্তী জীবন সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হবার উপযুক্ত সময় এই ছাত্রজীবন। তাই ছাত্রজীবনে অধ্যবসায়ের গুণ আয়ত্ত করা সর্বাপেক্ষা প্রয়োজনীয়। অধ্যবসায় ব্যতীত ছাত্রজীবনে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব নয়। অলস ও শ্রমবিমুখ ছাত্র-ছাত্রী যতই মেধাবী হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত সে বিদ্যার্জনে সফলতা লাভ করতে পারে না। অন্যদিকে একজন অধ্যবসায়ী ছাত্র বা ছাত্রী স্বল্প মেধাসম্পন্ন হলেও ভালো ছাত্র হিসেবে নিজের কৃতিত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সফল হয়। ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে- ‘Failure is the pillar of success’ ব্যর্থ না হলে সফলতার মর্ম বোঝা যায় না। তাই একবার অকৃতকার্য হলে হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দেওয়া বোকামি বরং অধ্যবসায়ের দ্বারা লক্ষ্য অর্জনের দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত।
ব্যক্তিজীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব: প্রতিটি মানুষই ব্যক্তিজীবনে সাফল্য কামনা করে। কিন্তু জীবনে সহজেই সাফল্য আসে না। সাফল্য অর্জনের পথে মানুষকে প্রতিনিয়ত নানারকম বাধার সম্মুখীন হতে হয়। কোনো মানুষের জীবনই নিরবিচ্ছিন্ন সুখের নয়। জীবনে কষ্ট আছে, হতাশা আছে, ব্যর্থতা আছে। এসব দুঃখ-বেদনা-হতাশা-ব্যর্থতাকে ঝেড়ে ফেলে যে ব্যক্তি লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যায় সে-ই সফল হতে পারে। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার তা-ই বলেন-
‘কেন পান্থ ক্ষান্ত হও, হেরি দীর্ঘ পথ
উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ?’
কেবলমাত্র অধ্যবসায়ী ব্যক্তিরাই নিষ্ঠা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সফলতার স্বর্ণচূড়া স্পর্শ করতে পারে। তাই ব্যক্তিজীবনে অধ্যবসায়ী হওয়া প্রত্যেক মানুষের জন্যই একান্ত আবশ্যক।
জাতীয় জীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব: প্রবাদ আছে- ‘রোম নগরী এক দিনে তৈরি হয়নি।’ প্রতিটি জাতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে এসব জাতির গোড়াপত্তন এবং অগ্রগতির পেছনে আছে শত সহস্র বছরের অসংখ্য মানুষের যুগ-যুগান্তরের সাধনা। প্রকৃতপক্ষে, একটি দেশ বা জাতির উন্নতির জন্য ঐ জনগোষ্ঠীর সকল নাগরিকেরই অধ্যবসায়ী হওয়া একান্ত প্রয়োজন। কোনো একটি জাতিগোষ্ঠীর প্রত্যেক নাগরিক যখন ব্যক্তিজীবনে অধ্যবসায়ী হয়ে উঠবে তখন ঐ জাতির উন্নতি অবশ্যম্ভাবী। পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্রগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে যে, সেসব দেশের প্রায় সকল নাগরিকই অধ্যবসায়ী। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, মালয়েশিয়ার মতো প্রথম সারির দেশগুলোর উন্নতির মূলমন্ত্র অধ্যবসায়। কেবলমাত্র অধ্যবসায়ের গুণেই এসব দেশ উন্নতির শীর্ষে অবস্থান করছে।
প্রতিভা ও অধ্যবসায়: কিছু মানুষ মনে করে যে, প্রতিভার বলে অসাধ্য সাধন করা যায়। কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাসে এ পর্যন্ত যারাই কীর্তিমান বলে পরিচিতি লাভ করেছেন তাঁরা নিজেদের প্রতিভার চেয়ে অধ্যবসায়ের প্রতি বেশি জোর দিয়েছেন। বিজ্ঞানী নিউটন এ প্রসঙ্গে বলেন-‘আমার আবিষ্কারের কারণ প্রতিভা নয়, বহু বছরের চিন্তাশীলতা ও পরিশ্রমের ফলে দুরুহ তত্ত্বগুলোর রহস্য আমি ধরতে পেরেছি।’ অন্যদিকে ডালটন বলেন- ‘লোকে আমাকে প্রতিভাবান বলে, কিন্তু আমি পরিশ্রম ছাড়া কিছুই জানি না।’ সৃষ্টিকর্তা প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই কম-বেশি প্রতিভা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন কিন্তু এই প্রতিভা মানব মনে সুপ্ত অবস্থায় থাকে। এই সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে অধ্যবসায় অনিবার্য। এমন বহু দৃষ্টান্ত আছে যে, অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী হয়েও শুধুমাত্র অধ্যবসায়ের অভাবে ব্যর্থতাকেই বরণ করে নিতে হয়েছে। ফরাসি দার্শনিক ভলতেয়ার যথার্থই বলেছেন- ‘প্রতিভা বলে কিছু নেই। পরিশ্রম ও সাধনা করে যাও, তাহলে প্রতিভাকে অগ্রাহ্য করতে পারবে।’ প্রতিভার সঙ্গে অধ্যবসায় যুক্ত হলেই অসাধ্য সাধন করা সম্ভব। অধ্যবসায় না থাকলে প্রতিভা মূল্যহীন হয়ে পড়ে।
অধ্যবসায়ীর দৃষ্টান্ত: ঘাত-প্রতিঘাতময় জীবন সংগ্রামে সাফল্যের মূলমন্ত্র হলো অধ্যবসায়। বিশ্ব ইতিহাসের পাতা উল্টালে অনুস্মরণীয় অসংখ্য অধ্যবসায়ীর দৃষ্টান্ত চোখে পড়ে। স্কটল্যান্ডের রাজা রবার্ট ব্রুসের জীবন অধ্যবসায়ের একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। তিনি ইংরেজদের সাথে যুদ্ধে একে একে ছয় বার পরাজিত হয়েও জয়ের আশা ত্যাগ করেননি। বরং পুনরায় সৈন্য সংগ্রহ করে সপ্তম বারের মতো যুদ্ধে যান এবং জয়ী হয়ে হৃতরাজ্য ফিরে পেয়েছিলেন। এমনিভাবে, ইসলাম ধর্মের প্রচারক হযরত মুহম্মদ (স.) সত্যধর্ম প্রচারে বারবার বাঁধা ও নির্যাতনের শিকার হলেও তিনি হাল ছেড়ে দেননি। বরং কঠোর অধ্যবসায়ের বলে তিনি ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে সফল হয়েছিলেন। অন্যদিকে গ্রীসের বাগ্মীপ্রবর ডিমস্থিনিয়া প্রথম জীবনে তোতলা ছিলেন। স্বীয় অধ্যবসায়ের বলে পরবর্তীতে তিনি গ্রীসের বিখ্যাত বক্তা হিসেবে সুখ্যাতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। আবার মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবর প্রথম জীবনে রাজ্য থেকে নির্বাসিত হলেও পরবর্তীতে অদম্য অধ্যবসায়ের বলে তিনি সমগ্র ভারতবর্ষের সম্রাট হতে পেরেছিলেন। অর্ধ-পৃথিবীর অধিশ্বর নেপোলিয়ান বোনাপার্ট তাঁর জীবনালেখ্যের মাধ্যমে অধ্যবসায়ের অপূর্ব নিদর্শন রেখে গেছেন। তিনি বলেছেন- “Impossible is a word which is found only in the dictionary of a fool.” অন্যদিকে স্রষ্টার সৃষ্টির দিকে তাকালে দেখা যায় কেবল মানুষই নয়, সামান্য পতঙ্গের মধ্যেও অধ্যবসায়ের গুণটি উপস্থিত। সমস্ত প্রাণীজগতের মধ্যে সর্বাপেক্ষা ক্ষুদ্র যে পিপঁড়া, তার মধ্যেও নিরলস পরিশ্রম এবং অধ্যবসায়ের নিদর্শন চোখে পড়ে।
অধ্যবসায়হীনের অবস্থা: প্রবাদ আছে- ‘অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা’। অধ্যবসায়হীন, শ্রমবিমুখ ব্যক্তিরা কেবলমাত্র দেশ ও জাতির অন্ন ধ্বংস করতে পারে। অধ্যবসায়হীন ব্যক্তি কেবল নিজের জন্যই নয়, সমগ্র জাতির জন্য ক্ষতির কারণ। অধ্যবসায় না থাকলে ছাত্রজীবন, ব্যক্তিজীবন, জাতীয় জীবন, কোনো ক্ষেত্রেই সাফল্য লাভ করা যায় না। ফলে কোনো কাজেই সফলতা অর্জন করতে না পেরে অধ্যবসায়হীন ব্যক্তির জীবন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় এবং সর্বোপরি সে সমাজের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়।
উপসংহার: মানুষ স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। কেবল কথায় নয়, কাজের মধ্য দিয়ে মানুষকে এই শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় দিতে হয়। আর এ জন্যে সর্বাগ্রে যে গুণটি আয়ত্ত করা প্রয়োজন তা হলো অধ্যবসায়। প্রত্যেক মানুষের মনে রাখা উচিত আল্লাহ তাদেরই সাহায্য করেন, যারা অধ্যবসায়ী এবং পরিশ্রমী। তাই সফলতার পথে এগিয়ে যেতে আমাদের সবাইকে হতে হবে অদম্য অধ্যবসায়ী।

Thursday, 5 May 2016

জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে

জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!
পঞ্জাব সিন্ধু গুজরাট মরাঠা দ্রাবিড় উৎকল বঙ্গ
বিন্ধ্য হিমাচল যমুনা গঙ্গা উচ্ছলজলধিতরঙ্গ
তব শুভ নামে জাগে, তব শুভ আশিষ মাগে,
গাহে তব জয়গাথা।
জনগণমঙ্গলদায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!
জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় জয় জয় জয় হে।।

অহরহ তব আহ্বান প্রচারিত, শুনি তব উদার বাণী
হিন্দু বৌদ্ধ শিখ জৈন পারসিক মুসলমান খৃস্টানী
পূরব পশ্চিম আসে তব সিংহাসন-পাশে
প্রেমহার হয় গাঁথা।
জনগণ-ঐক্য-বিধায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!
জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় জয় জয় জয় হে।।

পতন-অভ্যুদয়-বন্ধুর পন্থা, যুগ যুগ ধাবিত যাত্রী।
হে চিরসারথি, তব রথচক্রে মুখরিত পথ দিনরাত্রি।
দারুণ বিপ্লব-মাঝে তব শঙ্খধ্বনি বাজে
সঙ্কটদুঃখত্রাতা।
জনগণপথপরিচায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!
জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় জয় জয় জয় হে।।

ঘোরতিমিরঘন নিবিড় নিশীথে পীড়িত মূর্ছিত দেশে
জাগ্রত ছিল তব অবিচল মঙ্গল নতনয়নে অনিমেষে।
দুঃস্বপ্নে আতঙ্কে রক্ষা করিলে অঙ্কে
স্নেহময়ী তুমি মাতা।
জনগণদুঃখত্রায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!
জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় জয় জয় জয় হে।।

রাত্রি প্রভাতিল, উদিল রবিচ্ছবি পূর্ব-উদয়গিরিভালে –
গাহে বিহঙ্গম, পূণ্য সমীরণ নবজীবনরস ঢালে।
তব করুণারুণরাগে নিদ্রিত ভারত জাগে
তব চরণে নত মাথা।
জয় জয় জয় হে জয় রাজেশ্বর ভারতভাগ্যবিধাতা!
জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় জয় জয় জয় হে।।https://www.youtube.com/watch?v=5NIh2iUmTcc

Monday, 2 May 2016

Student visa information for Australia

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা: তথ্য ও অভিজ্ঞতা

প্রতি বছর অস্ট্রেলিয়াতে উচ্চশিক্ষার জন্য কয়েক লক্ষ ছাত্র-ছাত্রী বাইরে থেকে আসে। সরকারী হিসেব মতে ২০০৩ সালে এসংখ্যা তিন লক্ষেরও বেশি। আমাদের দেশ থেকেও প্রতিবছর কয়েক হাজার ছাত্র-ছাত্রী পড়তে আসে। তবে যোগ্যতা থাকলেও উপযুক্ত তথ্যের অভাবে আমাদের দেশের অনেকে ইচ্ছে সত্ত্বেও আসতে পারে না। অনেক সময় দেশ-বিদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সংস্হা বা মিডিয়ার মাধ্যমে অনেক ছাত্র-ছাত্রী আর্থিকভাবে প্রতারিত হয়। এক্ষেত্রে শুধু অর্থ নয়, ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের জীবনের মূল্যবান সময়ও হারিয়ে ফেলে। এজন্য দরকার উপযুক্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য।
অস্ট্রেলিয়াতে উচ্চশিক্ষার জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে দেশটির সরকার নিয়ন্ত্রিত ওয়েবসাইট গুলোতে। কারন, সরকারী ওয়েবসাইট গুলোতে অস্ট্রেলিয়াতে আন্তর্জাতিক ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখা বিষয়ক বিভিন্ন পরিবর্তন সংযোজন, ও বিযোজন গুলো নিয়মিত আপডেট করা হয়। এছাড়া ‘আইডিপি অস্ট্রেলিয়া’ (International Development Program – Australia) আন্তর্জাতিক ভাবে অস্ট্রেলিয়ান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর একমাত্র সমন্বিত প্রতিনিধি। বাংলাদেশে এর অফিস ঢাকার গুলশান ২ নম্বর গোল চক্কর থেকে অল্পদূরে কামাল আতাতুর্ক এভিনিউতে (ফোন: ৯৮৮৩৫৪৫, ই-মেইল: info.dhaka@idp.com)।
‘অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষা’ (The Australian Education International) সংস্হার ‘স্টাডি ইন অস্ট্রেলিয়া’ (Study in Australia) হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া সরকারের আন্তর্জাতিক ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখা বিষয়ক অফিসিয়াল ওয়েব সাইট। এখানে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গূলোর নাম, বিভিন্ন বিষয়, পড়ালেখা ও থাকার-খাওয়ার খরচ, বৃত্তি, ভিসা, আবেদন প্রক্রিয়া, থাকা-খাওয়ার সুবিধা, ও অস্ট্রেলিয়ায় জীবনযাপন সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া প্রতিটি অনুমোদিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
অষ্ট্রেলিয়ায় বা অন্য যে কোন দেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য যাওয়া একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ব্যাপার। এজন্য একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে অনেক আগে থেকে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিতে হয়। আমি সর্বপ্রথম অষ্ট্রেলিয়ায় আসার জন্য পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি শুরু করি ২০০৩ সালে। সে সময় ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরে মাস্টার্সের গবেষণা কাজে ব্যস্ত ছিলাম। আমি ভর্তির আবেদন পত্রের সাথে বৃত্তির জন্যও আবেদন করি। কিন্তু প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির অভাবে আমার IELTS (International English Language Testing System) স্কোর আশানুরূপ না হলে অষ্ট্রেলিয়ার একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির সুযোগ ও থাকা-খাওয়ার বৃত্তি পেলেও, সবচেয়ে প্রয়োজনীয় টিউশন ফি ও মেডিকেল ইনসুরেন্স পরিশোধকারী IPRS (International Postgraduate Research Scholarships) বৃত্তি পাইনি। পরের বছর বাংলাদেশ থেকে IELTS-এ প্রয়োজনীয় স্কোর করতে সমর্থ হলে আমি পূর্ণ বৃত্তি লাভ করি।
এখানে স্নাতকোত্তর কোর্সগুলোতে প্রচুর গবেষণা বৃত্তি থাকলেও স্নাতকপূর্ব কোর্স গুলোতে বৃত্তি নেই বললেই চলে। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিটি বিষয়ে মোট সিট ও বৃত্তির সংখ্যা নির্দিষ্ট। সাধারণত যেকোন বিষয়ে বৃত্তিসহ ভর্তির আবেদনকারীকে একই বিষয়ে বৃত্তিছাড়া ভর্তির আবেদনকারীর চেয়ে কয়েকগুন বেশি প্রতিযোগিতায় পড়তে হয়। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাধারণত কোনরূপ পক্ষপাতিত্ব না করে সকল আবেদনকারীদের মধ্য থেকে তাদের প্রয়োজনীয় সংখ্যক সবচেয়ে ভাল ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তির সুযোগ দেয় ও এদের মধ্য থেকে শীর্ষস্হানীয় আবেদনকারীদেরকে নির্দিষ্ট সংখ্যক বৃত্তি দেয়।
বৃত্তি না পেলেও এখানে পার্টটাইম কাজের প্রচুর সুযোগ আছে। পার্টটাইম কাজ হিসেবে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রোগ্রামিং, টিউটরিং, মার্কিং ছাড়াও বাইরে অন্যান্য কাজ করা যায়। ছাত্র-ছাত্রীরা সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটি ও বছর শেষের লম্বা ছুটিতে (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারী) পার্টটাইম চাকুরী করে সারা বছরের পড়ালেখার খরচ যোগাড় করে। উল্লেখ্য, স্টুডেন্ট ভিসার শর্ত হিসেবে এক জন ছাত্র বা ছাত্রী সেমিস্টার চলাকালীন সময়ে সপ্তাহে ২০ ঘন্টা কাজ করতে পারে। বৃত্তি প্রাপ্তদের জন্য কোথাও (যেমন, মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ে) সপ্তাহে ১৫ ঘন্টা। তবে বছর শেষের লম্বা ছুটিতে যে যত খুশি কাজ করতে পারে।
অস্ট্রেলিয়াতে উচ্চশিক্ষার জন্য আসার জন্য ছয়টি মূল ধাপ আছে। এগুলো হল – পড়ার পরিকল্পনা, বিষয় নির্বাচন, ভর্তির আবেদন, ভিসার আবেদন, দেশ ত্যাগের পূর্বে করণীয়, ও অস্ট্রেলিয়াতে পৌঁছার পর করণীয়। নিচে আমরা প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হল।
১. পড়ার পরিকল্পনাঃ
সর্বপ্রথম একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে দেখতে হবে তার নিজের ক্যারিয়ারের জন্য কোন ধরনের কোর্স বা বিষয়ে সে আগ্রহী। মানে সে কোন বিষয়ে পড়া লেখা করতে চায়, তার বর্তমান যোগ্যতা কতটুকু, সে যে বিষয়ে আগ্রহী তা শেষ করতে কত সময় লাগবে, এবং সর্বোপরি সে কোথায় এ বিষয়ে পড়তে আগ্রহী তাও ঠিক করা প্রয়োজন। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়াতে চার ধরনের পড়ালেখার জন্য একজন ছাত্র বা ছাত্রী আসতে পারে – বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রী, কারিগরি ডিগ্রী, স্কুল-কলেজ, এবং ইংরেজি ভাষা শিক্ষা।
এরপর প্রতিটি আন্তর্জাতিক ছাত্র-ছাত্রীকে পড়াকালীন সময়ে খরচের কথা আগেভাগে চিন্তাভাবনা করে পরিকল্পনা করতে হয়। টিউশন ফি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিষয়ভেদে বিভিন্ন হয়। থাকা-খাওয়ার খরচও অস্ট্রেলিয়ায় জায়গাভেদে বিভিন্ন হয়। মনে রাখা প্রয়োজন, ভিসার আবেদনের সময় প্রয়োজনীয় খরচের সামর্থ্য দেখাতে ব্যর্থ হলে সাধারণত ভিসার আবেদন গ্রাহ্য হয় না। এখানে স্নাতকপূর্ব কোর্সের আন্তর্জাতিক ছাত্র-ছাত্রীদের বেশিরভাগ পুর্ণ খরচ দিয়ে পড়ালেখা করে, কারন স্নাতকপূর্ব কোর্সে আন্তর্জাতিক ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তির সংখ্যা খুবই সীমিত ও তাদের জন্য কোন রকম ধার বা লোনের (loan) ব্যবস্হাও নেই। অনুরূপভাবে, ডিপ্লোমা ও অন্যান্য কোর্সগুলোতে বৃত্তি নেই বললেই চলে। তবে, স্নাতকোত্তর গবেষণাভিত্তিক কোর্সে বেশ কিছু বৃত্তি আছে, যেমন, IPRS, AusAid, গ্রেজুয়েট বৃত্তি ইত্যাদি।
২. বিষয় নির্বাচনঃ
অস্ট্রেলিয়ার সরকার তাদের যে সকল বিষয়ে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক ছাত্র-ছাত্রীদের সুযোগ দেয়, সেগুলো থেকে একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে নিজের পড়ার পরিকল্পনা অনুসারে একটিকে বেছে নিতে হয়। সরকারী ওয়েবসাইটে একটি বিষয় বাছাই করার পর এই বিষয়টি যেসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ আছে তাদের তালিকা পাওয়া যায়। এখান থেকে এক বা একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাছাই করা যেতে পারে। এরপর দেখতে হবে এসকল বাছাইকৃত প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি পড়ার জন্য একজন ছাত্র বা ছাত্রীর কি কি যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন ও খরচ কেমন হবে ইত্যাদি। যোগ্যতার পরিমাপ প্রতিষ্ঠানটির মান ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর নির্ভর করে।
অনেক বিষয়ে (যেমন, এমবিএ) ভর্তির জন্য কাজের অভিজ্ঞতা একটি পূর্বশর্ত হতে পারে। এছাড়া ভর্তিচ্ছু একজন ছাত্র বা ছাত্রীর আগের একাডেমিক রেকর্ড ও ইংরেজি দক্ষতা (যেমন, IELTS) অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ন্যুনতম চাহিদার কম হলে সাধারণত ভর্তি, বৃত্তি, বা ভিসা কোনটির আবেদনই বিবেচনা করা হয়না। উল্লেখ্য, বৃত্তির জন্য আবেদন করলে ইংরেজী ভাযায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা (IELTS স্কোর) ভর্তির আবেদন পত্রের সাথে পাঠাতে হয়।
৩. ভর্তির আবেদনঃ
একজন ছাত্র বা ছাত্রী একাধিক বাছাইকৃত প্রতিষ্ঠানে পৃথকভাবে ভর্তির আবেদন করতে পারে। ভর্তির আবেদনপত্র সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যায় অথবা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি শাখায় যোগাযোগ করলে তারা সাধারণত ‘অ্যাপ্লিকেশন প্যাকেজ’ (Application Package) পোস্ট করে পাঠিয়ে দেয়। পূরণকৃত আবেদনপত্রের সাথে আবেদনকারীকে আগের একাডেমিক রেকর্ডের পূর্ণ বিবরণ (মার্কশীট, ট্রান্সক্রিপ্ট) ও সনদ, ইংরেজী ভাষার যোগ্যতা (যেমন, IELTS স্কোর), ও অভিজ্ঞতার সনদ সংযোগ করতে হয়। এরপর আবেদনকারী তার আবেদনপত্র সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্হানীয় এজেন্ট যেমন, আইডিপি অস্ট্রেলিয়ার (International Development Program – Australia) মাধ্যমে বা সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভর্তি শাখায় পোস্ট করে পাঠাতে পারে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আবেদনপত্র পাওয়ার পরে আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাই করে আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফলাফল জানায়।
৪. ভিসার আবেদনঃ
একজন আবেদনকারী কোন প্রতিষ্ঠান থেকে ভর্তির অফার লেটার (Offer Letter) পেলে, স্টুডেন্ট ভিসার (Student Visa) জন্য আবেদন করতে হয়। আবেদনের জন্য একটি নির্ধারিত ফরম পূরণ করে ভিসা আবেদন ফি সহ জমা দিতে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভিসার জন্য আবেদনের পূর্বে এক সেমিস্টারের টিউশন ফি পরিশোধ ও অস্ট্রেলিয়ার সরকার অনুমোদিত যেকোন কোম্পানীর সাথে ১ বছরের মেডিকেল ইন্সুরেন্স করতে হয়। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভর্তির নিশ্চয়তা সনদ (eCoE – electronic Conformation of Enrolment) ইস্যু করে যা ভিসার আবেদন পত্রের সাথে জমা দিতে হয়। এছাড়া, আবেদনকারীকে পড়ালেখার সময় খরচের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ টাকা ব্যাংকে আছে কিনা তার ব্যাংক হিসাব ভিসার আবেদেনপত্রের সাথে জমা দিতে হয়। উল্লেখ্য, বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীরা প্রয়োজনীয় খরচের যোগান তাদের বৃত্তি থেকে দেখাতে পারে। প্রাপ্ত বৃত্তি কোন খাতে (টিউশন ফি, মেডিকেল ইন্সুরেন্স, থাকা, খাওয়া) বছরে কত দিবে তা স্পষ্ঠভাবে অফার লেটারে উল্লেখ থাকে।
অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশন স্টুডেন্ট ভিসার সব যোগ্যতা পূর্ণ হলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর জন্য প্রি-ভিসা (Pre-visa) ইস্যু করে। এসময় নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে একজন অনুমোদিত ডাক্তারের কাছে মেডিকেল টেস্ট করতে হয়। এরপর অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশন স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যু করে। উল্লেখ্য, প্রাপ্ত স্টুডেন্ট ভিসায় পার্টটাইম কাজের অনুমতি না থাকলে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে পার্টটাইম কাজের অনুমতি চেয়ে আবেদন করলে সাধারণত অনুমতি পাওয়া যায়।
৫. দেশ ত্যাগের পূর্বে করণীয়ঃ
ভিসা পাওয়ার পরে তারিখ ঠিক করে বিমানের টিকেট কিনতে হয়। সাধারণত কোর্স শুরু হওয়ার ১-২ দিন আগে অস্ট্রেলিয়ায় এসে পৌঁছলে চলে। দেশ ত্যাগ করে নতুন জায়গায় যাওয়ার আগে একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে আরও কিছু বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে হয়। যেমন, অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়ার উপযুক্ত পোশাক যোগাড় করা ও প্রাথমিক ভাবে থাকা-খাওয়ার জন্য অন্যকোন কারও সাথে আগে থেকে যোগাযোগ করা ইত্যাদি। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (যেমন, মোনাশ, মেলবোর্ণ, সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে) আন্তর্জাতিক অফিস ছাড়াও বাংলাদেশ স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন বা মুসলিম স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন আছে। এদের সাথে যোগাযোগ করলে কোন সাহায্যকারী বন্ধু পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া অনেক সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিমান বন্দর থেকে রিসিভ করে নিয়ে আসে। এজন্য প্রতিষ্ঠানকে আগে থেকে জানাতে হয়।
৬. পৌঁছার পর করণীয়ঃ
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে কাগজে কলমে ভর্তির শেষ ফরমালিটি শেষ করতে হয়। অনেকসময় কোর্স শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের (Orientation Program) আয়োজন করে যেখানে কোর্স সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। নতুন ছাত্র-ছাত্রীদের এরকম প্রোগ্রামে উপস্হিত থাকা আবশ্যক। এছাড়া থাকা-খাওয়ার ব্যবস্হা ঠিক মতো না হলে, প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক অফিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
(Collected) By Surzo